আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী ২০১১

_MG_0999
২০১০ এর প্রথম বাইনারি তারিখে আমরা বিয়ে করেছিলাম, মানে পহেলা জানুয়ারী। দেখতে দেখতে একটা বছর চলে গেল। এক বছরের আমাদের ঘরে আমরা রূপকথার জন্ম দিয়েছি, ২০১০ এর ৫ নভেম্বর। একটা বছর কেমন করে যেন চলে গেল, ঠিক টের পেলাম না। আনন্দ ভালবাসা নিয়েই জীবন, এটা উপভোগ করেছি বলা যায়। বেঁচে থাকাটা খুব খারাপ নয়!
নব বর্ষের দিন বিয়ে করে মনে হয় একটা ভুল হয়ে গেছে।  কাউকেই পাওয়া যায় না। সবাই অনেক ব্যস্ত থাকে।  তাই সরণি আর আমি বের হলাম শেষ বিকেলে। এক সাথে একটু বাইরে থাকা। রূপকথা নানীর কাছে, এটা একটা চিন্তার কারণ। যেহেতু খাওয়াদাওয়ার ব্যপার তাই অবধারিত ভাবে ফোন করলাম শিপলু ভাই কে। উনি হচ্ছেন আমার লাইভ খাবার বিশ্বকোষ। আমার ধারণা ঢাকার সমস্ত খাবারের দোকানের খবর উনি জানেন। শিপলু ভাই একটা জায়গার কথা বললেন, যেটা আমাদের বাসার কাছে ছিল, নাম প্রিন্স রেস্তুরান্ট। অনেক আশা নিয়ে গেলাম আন্দ বিভোল হইলাম। কারণ সেখানে private পার্টি চলতেছে। মন খারাপ করে হাত দিলাম আবার। এর পরে একটা রেস্তুরান্ট এ গিয়ে বসলাম এবং বছরের সুরুতে অতি জঘন্য খাবার খেলাম। রেস্তুরান্ট এর নাম চিয়ার্স। আপনারা কেউ ভুলেও এঐ রেস্তুরান্ট খাইয়েন না। ধানমন্ডি ২৭ এ এই রেস্তুরান্ট।
কনক দা কুষ্টিয়ায় ছিলেন, তাই তাকে পাওয়া গেল না। এক বসর আগের সেই দিনে দাদা আমাদের বিয়ে দিয়েছিলেন। অনেক মিস করেছি ওনাকে।

অরুন্ধতী রূপকথা

SAMSUNG
রূপকথার জন্ম হয় ৫ নভেম্বর, ২০১০। অরুন্ধতী রূপকথা আমাদের মেয়ের নাম। এই নাম অনেক আগে থেকেই ঠিক করা। অরুন্ধতী রেখেছে ওর মা আর রূপকথা রেখেছে ওর ফুপু। অবস্সো মেয়ের জায়গায় ছেলে হলে বেশ বিপদের পড়তে হত। ছেলের জন্য পুরো কোনো নাম ঠিক করা হয় নাই।  আমাদের মেয়ে এখন হাত পা ছুড়ে সারাদিন আ আ করে। আমরা মুগ্ধ হয়ে দেখি। এই মুগ্ধতা আমাদের বড় ভালো লাগার। বার বার হতে ভালো লাগে। এখান থেকেই শুরু আমাদের জীবনের রূপকথা।

বিমূর্ত এই রাত্রী আমার

আমার অনেক প্রিয় একটি গান। গানটা প্রথম কবে শুনেছি এটা বলতে পারব না যেমন ভাবে আমি বলতে পারিনা আমি প্রথম কবে গান গাওয়া শুরু করেছি। অবসরে, ক্লান্তিতে, ফুর্তিতে আমি গান গাই। গান গাই যখন কষ্টে থাকি, যখন স্বপ্ন দেখি। আসলে আমার সময়গুলো গানময়। গানে গানে কাটে সারাসময়। এখন পর্যন্ত যে গানগুলি আমি সর্বাধিকবার শুনেছি এ’টি তাদের একটি। গানটির গীতিকার কে আমি জানি না তবে সুরকার ভূপেন হাজারিকা (সম্ভবত)। গানটির দু’টা ভার্সন আছে। একটি ভূপেন হাজারিকার গাওয়া অন্যটি আবিদা সুলতানার (সঞ্চারি অংশটুকু)। আমি দুটি ভার্সন শুনে গানটি এখানে পোস্ট করলাম। অনেকেই হয়তো খুঁজে থাকবেন।

আমার এক বন্ধুর এই গানটি অনেক প্রিয়। এই গানের কথা উঠলেই ও বলত এটার চরম একটা ভিডিও বানাবে। আমি হাসতাম। আমার বন্ধুটি কিছুদিন আগে বিয়ে করেছে। তার রাত্রিগুলোন বিমূর্ত হয়ে থাক সারা জীবন। এইতো জীবনের গান! দিহান এই গানটা তোমার জন্য।

মূল অসমীয়া কথা ও সুর: ভূপেন হাজারিকা

বাংলা অনুবাদ: শিব্‌দাস বন্দোপাধ্যায়

কন্ঠ: আবিদা সুলতানা

ছবি: সীমানা পেরিয়ে

বিমূর্ত এই রাত্রী আমার,

মৌনতার সুতোয় বোনা

একটি রঙিন চাদর;

সেই চাদরের ভাজে ভাজে

নিশ্বাসেরি ছোঁয়া

আছে ভালোবাসা আদর।

কামনার গোলাপ রাঙা

সুন্দরী এই রাত্রীতে

নিরব মনের বরষা

আনে শ্রাবন ভাদর

সেই বরষার ঝড়ঝড়

নিশ্বাসের ছোঁয়া

আর ভালোবাসা আদর।

ঝরে পরে ফুলের মতোন

মিষ্টি কথার প্রতিধ্বনি

ঝরায় আতর

যেন ঝরায় আতর

পরিধিবিহীন সঙ্গম

মুখে নির্মল অধর

কম্পন কাতর;

নিয়ম ভাঙার নিয়মে যে

থাকনা বাঁধার পাথর

কোমল আঘাত প্রতি আঘাত

রাত্রী নিথর কাতর।

দূরের আর্তনাদের নদীর

ক্রন্দন কোন ঘাটের

ভ্রক্ষেপ নেই পেয়েছি আমি

আলিঙ্গনের সাগর

সেই সাগরের ছ্রোতে আছে

নিশ্বাসেরি ছোঁয়া

আর ভালোবাসা আদর।

আমি গানকে পাই না গান আমাকে?

যেকথা বলেছি

তুমি কী শুনেছ?

শুনে কী স্বপ্ন সুতোয় দি বুনেছ?

কথা কী শুনেছ?

সেদিন আকাশটা ছিল খুব কুয়াশা মাখা

সেদিন আকাশ ছিল জোৎস্না পাওয়া

হাতের পরশে কি কথা বুঝেছ?

মনে কী কিছুই আজ রেখেছ?

কথা কী শুনেছ?

<<এই হচ্ছে আজকের গানের কথা। হুট করে একটা সুর মাথায় এল সাথে সাথে এই কথাগুলোন বসিয়ে দিলাম। হয়ে গেল গান। অনেক দিন পরে আবার এই চর্চা। আমার মনে হয় পাপমোচন পর্ব চলছে। লিখতে শুরু করলাম। উদ্দেশ্যহীন লেখালিখি।

তবে ইদানিং ছবি তুলতে পারছি না। ইচ্ছেও হচ্ছে না। এটা খারাপ না ভাল জানি না। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু না করাই ভালো। তাই ভাবছি ছবি তুলব না। তবে এবার ঈদে বাড়িতে গিয়ে কিছু ছবি তুলেছি, একটা পোস্ট করে দিচ্ছি।

My Home

কবে যাব বাড়িরে, আহারে… 🙂

আমি কান পেতে রই!

অসহ্য একটা দিন গেল। অফিস বন্ধ (শনিবার)। ভাবলাম রাজ্য উদ্ধার করে ফেলব। কিছুই হলোনা। এমনকি আমার কাজের ঘরটা গোছাব বলে ভেবে রেখেছিলাম তাও লণ্ডভন্ড। অবশ্য একটা কাজের কাজ হয়েছে। অনেক দিন পর প্রাণপ্রিয় শিপ্লু ভাইয়ের সাথে প্রায় ২ঘন্টা স্কাইপে গল্প করেছি। লোকটা এখনও আগের মতোন আছেন। নো চেন্জ। গ্যাজেট ফ্রিক এই মানুষটা আজকে অনেক নতুন গ্যাজেটের গল্প করলেন এবং বরাবরের মতোন আমি পটে গেলাম। আমিও ডিভাইসটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। একটা এনড্রয়েড ট্যাবলেট কম্পিউটার।

এর আগেও অনেকভাবে শিপ্লু ভাইয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি। এমনকি আজকের মেদযুক্ত শরীরটিও ওনার বদৌলতে পেয়েছি। শিপ্লু ভাইয়ের মতো ভোজন রসিক আর চোখে পড়েনি। যেহেতু আগেই বলেছি ওনার দ্বারা অনেক প্রভাবিত আমি তাই বাকীটা বুঝে নিন।

কিন্তু এইযে এখন সন্ধ্যা-রাত সময়টা। পান্থপথে সাইরেন বাজিয়ে এম্বুলেন্স উৎকন্ঠার গান গাচ্ছে। আমি বসে আছি। দিন শেষে কেমন যেন শুন্যতা। কোথায় যেন একটু কষ্ট। তবুও কান পেতে আছি। আগামীর জন্য। একটু সুন্দর দিনের জন্য। সামনের দিনটা ভালো হবে আশা করছি!

আমার এ পথ চাওয়াতেই আনন্দ

মাস দুয়েক আগে আমার ব্লগ থেকে সকল বাংলা টেক্সট হাওয়া হয়ে যায়। কষ্ট পাই এবং তার পর থেকে ব্লগে পোস্ট দেয়া বন্ধ করে দেই। আজকে থেকে আবার শুরু করলাম। দেখি কী হয়?

প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ

আপনাকে প্রিয় সম্বোধন করতেই পারি। আপনি আমার প্রিয় লেখক। আপনার ছোট-বড় সব লেখাই আমি মনযোগ দিয়ে পড়ি; পড়েছি। অনেক ভালোলাগা অনুভূতির সাথে আপনার লেখা আমাকে আবিষ্ট করেছে। এ অনেক ভালো অনুভূতি। আমি খুশি। আপনি লিখতে থাকবেন। আমরা পড়ব। লেখক-পাঠক সম্পর্ক অম্লান থাকবে।

image_155_53778[1] একজন লেখক কতটা ক্ষমতাবান হতে পারেন তার উদাহরণ আপনি দেখিয়েছেন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার সময় জাতি আপনার ক্ষমতার নমুনা পেয়েছিল। আমি কুড়িগ্রামে ছিলাম সেই সময়টা। মানুষেল সৃজনশীলতা’র ক্ষমতা দেখে চোছে পানি এসেছিল সেদিন। মানুষ কত অপার সম্ভাবনাময়!

আপনি আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। আপনি খুব ভালোই ধারনা রাখেন আপনার লেখার প্রভাব কোথায় কোথায় পরে। আপনার যেকোন মতামত অনেক বড় ব্যপার। আপনি অনেক জ্ঞানী মানুষ। আপনার মতামতকে আমরা অনেক বড় করে দেখতে শিখেছি।

কিছুদিন থেকে কালের কন্ঠে আপনার ফাউনটেন পেন পড়ছি। আপনার অমচনীয় কালিতে লেখা আত্মজিবনী। অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। সেখানে আপনি খুব সুন্দর করে বলেছেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ভুল নিয়ে। বলেছেন গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ভুল করতে নেই। আপনার কাছ থেকে এই তথ্যটি পেলাম।

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=06-05-2010&type=single&pub_no=155&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=3 এই লেখাটি পড়ে আমি খুবই শঙ্কিত হয়ে যাই। আপনিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এই মন্তব্য করা কি ঠিক হল?

আমি বিশ্বায়নের বিপক্ষে নই। তবে এমন কোন বিষয় চাইনা যাতে আমার নিজের ক্ষতি হয়। যেকোন দেশ থেকে চলচ্চিত্র আমদানী করতে আমার কোন আপত্তি নেই যদি তা ভালো ছবি হয়। এই ইন্ডিয়ান চলচ্চিত্রগুলোন কি ভালো? আমি অনেকগুলোন হিন্দি ছবি দেখার চেষ্টা করেছি এবং ফলাফল ভয়াবহ। আমি ৯৫% সময় সেগুলোকে বিভিন্ন হলিউড ফিল্মের নকল হিসেবে পেয়েছি। আমাকে আপনি দয়াকরে বলবেন কেন নকল ছবিগুলোন দেখতে হবে? চুরি করা গুণকে কি সমাদর করা উচিৎ? আমি এটা করতে পারব না।

আমরা অনেক হলিউড ফিল্মকে অশ্লীল বলে দূরে সরাই। কিন্তু তুলনা করে দেখেছি মুম্বাইয়ের ছবিগুলো আরো অশ্লীল। যে দেশের সকল বিপনন ব্যবস্থাই এখন যৌনতার সুরসুরিতে চলে তা’র কাছ থেকে কি আশা করবেন? কেন বলছি একটু ব্যাখ্যা করি:

টুয়েনটি টুয়েনটি ক্রেকেট বিশ্বকাপ চলছে এখন। স্টার ক্রিকেট নামের ভারতীয় একটা চ্যানেল এটি সম্প্রচার করে। খেলায় প্রতি ওভারের সময়ে বিজ্ঞাপন দেখায় (যদিও সেটা আমি দেখতে চাইনা)। এই বিজ্ঞাপনের একটা অংশ সুগন্ধির। যেখানে রগরগে যৌনতা ছাড়া আর কিছুই নেই।

আমি ফটোগ্রাফি করি। নগ্নতা, যৌনতা, অ্শ্লীলতা এই বিষয়গুলোন আলাদা আলাদা ভাবে বুঝি। ইন্ডিয়ানদের যৌনতা সামগ্রী হতে পারে, আমাদের দেশে এখনো ঠিক হয়ে ওঠেনি। আমি রগরগে যৌনতা পারিবারিক টিভি রুমে দেখতে চাই না। আমার অনাগত সন্তানের কথা চিন্তা করলে এখন চোখে অন্ধকার দেখছি।

ভারত দেশটার জন্য আমি এখন টিভি দেখি না। যে চ্যানেলগুলোন এক সময় দেখতাম তার সবগুলোনই এখন ভারত থেকে সম্প্রচারিত হয়। এবং যেকোন ভালো চ্যানেলকে কিভাবে রেইপ করা যায় তার খাঁটি কারিগর ভারত। কেন? বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন নামক যন্ত্রনার কারনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি এখন আর দেখি
া। আর অন্য চ্যানেলগুলোর কথা বাদ দিলাম। হুমায়ূন স্যার আপনি কি জানেন বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান পণ্যের বিপনন-বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় অনেক কম টাকা ব্যয় করা হয়? কারন তাদের টেলিভিশন আগ্রাসন সেই কাজটি করে দেয়। আমাদের বিজ্ঞাপন ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

তাদের তৃতীয় শ্রেণীর টিভি চ্যানেলগুলোন আবার পয়সা দিয়ে দেখতে হয়। একজন লোকের অনেক গুলোন বউ ছিল আবার সেই অনেক বউদের অনেকগুলোন স্বমী ছিল টাইপ কাহিনী গুলোন পয়সা(!) দিয়ে আমরা দেখি। দেখতে বাধ্য হই। কেন হই? আমাদের দেশের চ্যানেলগুলোকে সি ব্যান্ডে ট্রান্সমিট করা হয়। যা দেখার জন্য অনেক বড় ডিশ অ্যান্টেনা লাগে। যার ইন্সটলেশনও অনেক ঝামেলার। তাই আমরা ক্যাবল অপারেটরদের কাছ থেকে চ্যানেলগুলোন দেখি। আমি কি কি দেখতে চাই সেটাও বড় ব্যাপার নয়! তারা কি কি দেখাবে সেটাই ফাইনাল। কোন অপশন নাই। আমরা সবাই জিম্মি ম্যাংগো পিপল (আম জনতা)। যদি টিভি চ্যানেলগুলোন কু ব্যান্ডে (Ku) সম্প্রচার করতো তাহলে অনেক ছোট ডিশ (আসলেই একটা থালার সাইজ) দিয়ে দেখতে পারতাম। কিন্তু এই কাজটি করা হয়না। ক্যবল অপারেটরদের ব্যবসায়ীক ক্ষতি বিবেচনা করে। আবার ক্যাবল অপারেটরদের আজেবাজে চ্যানেলগুলোন নিতে বাধ্য করে একটা মাত্র প্রতিষ্ঠান। যার নাম ন্যাশনওয়াইড কমিউনিকেশন। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সব অখাদ্য চ্যানেলের একমাত্র পরিবেশক এবং রাজনৈতিকভাবে অনেক সক্রিয়। এখানেও মনোপলি। সরকার এগুলোন নিয়ে ভাববে কেন? সরকার তো নৃত্বাত্ত্বিক বিষয়ে ভাববে না। ভাববে কিভাবে বিরোধি দলকে প্যাচে ফেলান যায়। আর কোন প্রতিষ্ঠিত নামকে কিভাবে পরিবর্তন করা যায়। চলছে চলবে। খুব অবাক হবো না কোনদিন আমাদের দেশের চ্যানেলগুলোতে ইমপোর্টেট ভারতীয় সিরিয়াল দেখলে।

ইন্ডিয়া তাদের চ‍্যানেলগুলোকে প‍্যাকেজ আকারে এখন কু ব‍্যান্ডে সম্প্রচার করছে পয়সার বিনিময়ে (টাটা স্কাই, িডস টিভি, এয়ারটেল)। হুমায়ূন স‍্যার আপনি কি সরকারকে অনুরোধ করতে পারেন না আমাদের দেশের চ‍্যানেলগুলোকে একই ভাবে সম্প্রচার করার জন‍্য? এই সম্প্রচার হবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিচার করে। যেখানে বাংলাদেশি পনে‍্যর বিজ্ঞাপন থাকবে। থাকবে আমাদের নিজস্ব মডারেশন। এই কাজটি করা অনেক জরুরী। তাহলে প্রত‍্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ বিনোদনের চাহিদা মেটাতে পারবে। কারন এই ধরনের ডিস রিসিভার ২০০০টাকায় পাওয়া যায়।

হুমায়ূন স্যার আপনি লিখতে পারতেন ‘কেন বাংলাদেশ সরকার আজেবাজে ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে বিজ্ঞাপণ প্রচার করার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিবে না’ কিন্তু আপনি তা করেন নি। আপনি তাদের ফিল্মকেই দেখলেন। যে ফিল্ম সস্তা মানের হেরোইনখুরি (গাজাখুরি শব্দটা লজ্জিত) কাহিনি ছাড়া আর কিছুই নয়।
আপনি লিখতে পারতেন ‘যেহেতু ভারতী ছবি এই দেশে নিষিদ্ধ তাহলে কেন ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোকেও নিষিদ্ধ করা যাবে না’ তা আ্পনি লিখেন নি। আপনি অনেক বড় মাপের মানুষ। এত ছোট বিষয় নিয়ে অবশ্য আপনি লিখবেন না। আপনি আপনার লেখনী দিয়ে অনেক সুক্ষভাবে মানুষকে নাড়াতে পারেন। আর আপনার প্রিয় দেশটার সংস্কৃতিকে যে অনেক সুক্ষভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে তা দেখেন না? আপনার দেশটার ইন্ডাস্ট্রি নষ্ট হচ্ছে তাও দেখছেন না।

স্যার আমি দেশের হলগুলোতে ভালো সিনেমা দেখতে চাই। ভারতীয় সিনেমা যদি দেখান স্পষ্ট করে বলতে হবে যে এটা কোন সিনেমার নকল (আমি ১০০ভাগ সিওর নকলবাজি না করে ওরা কিছু করতে পারবেনা) এবং এটার ভালো ছবি (!) হওয়ার যোগ্যতা। আর শুধু ভারতীয় ছবি কেন ফরাশি, ইটালিয়ান, জাপানিজ, পোল্যান্ড, ইংল্যান্ডের ফিল্মগুলোন কি বিশ্বায়নের বাইরে? এগুলো কয়েকটা হলে না এনে বেশী আকারে আনা হোক। প্রতিযোগিতা করলে অরিজিনালের সাথে করি। কপি কালচারের সাথে না।

আপনি দেশী কায়দায় নাচে গানে ফাইটে ভরপুর একটা ব
াংলা সিনেমা বানিয়ে দেখুন তো! বুঝতে পারবেন আমাদের সমস‍্যাগুলোন কোথায়। তখন আপনি অন‍্য লেখা লিখবেন। আমি আশা করব আপনি এরপরে অবশ্যই আর একটি লেখা লিখবেন। যে লেখায় আপনি সরকারকে অনুরোধ করবেন চলচ্চিত্র বিষয়টাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অন্তর্ভুক্ত করার। আপনি অনুরোধ করবেন দেশে অনেক ভালো একটা ফিল্ম ইন্সটিটুট করার জন্য। আপনি আপনার ক্ষমতার ব্যাপারে যেমন জানেন, আমরাও জানি। কোন একটার পরিবর্তনকে অনেক মূল থেকে করতে হয়। আপনি এই কাজটি করুন প্লিজ। অনেক সম্ভাবনার দেশ আমাদের। এই সম্ভাবনাগুলোন আপনার ক্ষমতা দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিন।

শুভ কামনা।